আরোগ্যের পথে যখন পেলেম সদ্য প্রসন্ন প্রাণের নিমন্ত্রণ, দান সে করিল মোরে নূতন চোখের বিশ্ব-দেখা। প্রভাত-আলোয় মগ্ন ঐ নীলাকাশ পুরাতন তপস্বীর ধ্যানের আসন, কল্প-আরম্ভের অন্তহীন প্রথম মুহূর্তখানি প্রকাশ করিল মোর কাছে; বুঝিলাম, এই এক জন্ম মোর নব নব জন্মসূত্রে গাঁথা। সপ্তরশ্মি সূর্যালোকসম এক দৃশ্য বহিতেছে অদৃশ্য অনেক সৃষ্টিধারা।
বসন্ত এসেছে বনে, ফুল ওঠে ফুটি, দিনরাত্রি গাহে পিক, নাহি তার ছুটি। কাক বলে, অন্য কাজ নাহি পেলে খুঁজি, বসন্তের চাটুগান শুরু হল বুঝি! গান বন্ধ করি পিক উঁকি মারি কয়, তুমি কোথা হতে এলে কে গো মহাশয়? আমি কাক স্পষ্টভাষী, কাক ডাকি বলে। পিক কয়, তুমি ধন্য, নমি পদতলে; স্পষ্টভাষা তব কণ্ঠে থাক বারো মাস, মোর থাক্ মিষ্টভাষা আর সত্যভাষ।
এই দেহটির ভেলা নিয়ে দিয়েছি সাঁতার গো, এই দু-দিনের নদী হব পার গো। তার পরে যেই ফুরিয়ে যাবে বেলা, ভাসিয়ে দেব ভেলা, তার পরে তার খবর কী যে ধারি নে তার ধার গো, তার পরে সে কেমন আলো, কেমন অন্ধকার গো। আমি যে অজানার যাত্রী সেই আমার আনন্দ। সেই তো বাধায় সেই তো মেটায় দ্বন্দ্ব। জানা আমায় যেমনি আপন ফাঁদে শক্ত করে বাঁধে অজানা সে সামনে এসে হঠাৎ লাগায় ধন্দ, এক-নিমেষে যায় গো ফেঁসে অমনি সকল বন্ধ। অজানা মোর হালের মাঝি, অজানাই তো মুক্তি তার সনে মোর চিরকালের চুক্তি। ভয় দেখিয়ে ভাঙায় আমার ভয় প্রেমিক সে নির্দয়। মানে না সে বুদ্ধিসুদ্ধি বৃদ্ধজনার যুক্তি, মুক্তারে সে মুক্ত করে ভেঙে তাহার শুক্তি। ভাবিস বসে যেদিন গেছে সেদিন কি আর ফিরবে। সেই কূলে কি এই তরী আর ভিড়বে। ফিরবে না রে, ফিরবে না আর, ফিরবে না, সেই কূলে আর ভিড়বে না। সামনেকে তুই ভয় করেছিস, পিছন তোরে ঘিরবে এমনি কি তুই ভাগ্যহারা? ছিঁড়বে বাঁধন ছিঁড়বে। ঘন্টা যে ওই বাজল কবি, হোক রে সভাভঙ্গ, জোয়ার-জলে উঠেছে তরঙ্গ। এখনো সে দেখায় নি তার মুখ, তাই তো দোলে বুক। কোন্ রূপে যে সেই অজানার কোথায় পাব সঙ্গ, কোন্ সাগরের কোন্ কূলে গো কোন্ নবীনের রঙ্গ।