তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূরে আমি যাই কোথাও দুঃখ কোথাও মৃত্যু কোথা বিচ্ছেদ নাই। মৃত্যু সে ধরে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ সে হয় দুঃখের কূপ তোমা হতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই। হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা-কিছুসব আছে আছে আছে-- নাই নাই ভয়, সে শুধু আমারি-- নিশিদিন কাঁদি তাই। অন্তরগ্লানি সংসারভার পলক ফেলিতে কোথা একাকার তোমার স্বরূপ জীবনের মাঝে রাখিবারে যদি পাই।
পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া। যাত্রাপথের আনন্দগান যে গাহে তারি কণ্ঠে তোমারি গান গাওয়া। চায় না সে জন পিছন-পানে ফিরে, বায় না তরী কেবল তীরে তীরে, তুফান তারে ডাকে অকূল নীরে যার পরানে লাগল তোমার হাওয়া। পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া। পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে, পথিক-চিত্তে তোমার তরী বাওয়া। দুয়ার খুলে সমুখ-পানে যে চাহে তার চাওয়া যে তোমার পানে চাওয়া। বিপদ বাধা কিছুই ডরে না সে, রয় না পড়ে কোনো লাভের আশে, যাবার লাগি মন তারি উদাসে-- যাওয়া সে যে তোমার পানে যাওয়া। পথে চলাই সেই তো তোমায় পাওয়া।