যে তোমারে দূরে রাখি নিত্য ঘৃণা করে, হে মোর স্বদেশ, মোরা তারি কাছে ফিরি সম্মানের তরে পরি তারি বেশ। বিদেশী জানে না তোরে অনাদরে তাই করে অপমান, মোরা তারি পিছে থাকি যোগ দিতে চাই আপন সন্তান। তোমার যা দৈন্য, মাতঃ, তাই ভূষা মোর কেন তাহা ভুলি? পরধনে ধিক্ গর্ব, করি করজোড় ভরি ভিক্ষাঝুলি! পুণ্যহস্তে শাক-অন্ন তুলে দাও পাতে তাই যেন রুচে, মোটা বস্ত্র বুনে দাও যদি নিজহাতে তাহে লজ্জা ঘুচে। সেই সিংহাসন--যদি অঞ্চলটি পাত, কর স্নেহ দান। যে তোমারে তুচ্ছ করে সে আমারে, মাতঃ, কী দিবে সম্মান!
অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। তখন ছিল দখিন হাওয়া আধ-ঘুমো আধ-জাগা, তখন ছিল সর্ষে-খেতে ফুলের আগুন লাগা, তখন আমি মালা গেঁথে পদ্মপাতায় ঢেকে পথে বাহির হয়েছিলেম রুদ্ধ কুটির থেকে। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। বসন্তের সে মালা আজ কি তেমন গন্ধ দেবে নবীন-সুধা-ঢালা? আজকে বহে পুবে বাতাস, মেঘে আকাশ জুড়ে-- ধানের খেতে ঢেউ উঠেছে নব-নবাঙ্কুরে। হাওয়ায় হাওয়ায় নাইকো রে হায় হালকা সে হিল্লোল, নাই বাগানে হাস্যে গানে পাগল গণ্ডগোল। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি। হল কালের ভুল, পুবে হাওয়ায় ধরে দিলেম দখিন হাওয়ার ফুল। এখন এল অন্য সুরে অন্য গানের পালা, এখন গাঁথো অন্য ফুলে অন্য ছাঁদের মালা। বাজছে মেঘের গুরু গুরু, বাদল ঝরো ঝরো-- সজল বায়ে কদম্ববন কাঁপছে থরোথরো। অনেক হল দেরি, আজো তবু দীর্ঘ পথের অন্ত নাহি হেরি।