আসা-যাওয়ার পথের ধারে গান গেয়ে মোর কেটেছে দিন। যাবার বেলায় দেব কারে বুকের কাছে বাজল যে বীন॥ সুরগুলি তার নানা ভাগে রেখে যাব পুষ্পরাগে, মীড়গুলি তার মেঘের রেখায় স্বর্ণলেখায় করব বিলীন॥ কিছু বা সে মিলনমালায় যুগলগলায় রইবে গাঁথা, কিছু বা সে ভিজিয়ে দেবে দুই চাহনির চোখের পাতা। কিছু বা কোন্ চৈত্রমাসে বকুল-ঢাকা বনের ঘাসে মনের কথার টুকরো আমার কুড়িয়ে পাবে কোন উদাসীন॥
ক্ষমা করো মোরে সখী, শুধায়ো না আর— মরমে লুকানো থাক মরমের ভার ।। যে গোপন কথা, সখী, সতত লুকায়ে রাখি ইষ্টদেবমন্ত্রসম পূজি অনিবার । তাহা মানুষের কানে ঢালিতে যে লাগে প্রাণে— লুকানো থাক তা, সখী, হৃদয়ে আমার ।। ভালোবাসি, শুধায়ো না কারে ভালোবাসি । সে নাম কেমনে, সখী, কহিব প্রকাশি । আমি তুচ্ছ হতে তুচ্ছ— সে নাম যে অতি উচ্চ, সে নাম যে নহে যোগ্য এই রসনার ।। ক্ষুদ্র এই বনফুল পৃথিবীকাননে আকাশের তারকারে পূজে মনে মনে— দিন-দিন পূজা করি শুকায়ে পড়ে সে ঝরি, আজন্ম-নীরবে রহি যায় প্রাণ তার ।।
এখনো তারে চোখে দেখি নি, শুধু বাঁশি শুনেছি-- মন প্রাণ যাহা ছিল দিয়ে ফেলেছি॥ শুনেছি মুরতি কালো তারে না দেখা ভালো। সখী, বলো আমি জল আনিতে যমুনায় যাব কি॥ শুধু স্বপনে এসেছিল সে, নয়নকোণে হেসেছিল সে। সে অবধি, সই, ভয়ে ভয়ে রই-- আঁখি মেলিতে ভেবে সারা হই। কাননপথে যে খুশি সে যায়, কদমতলে যে খুশি সে চায়-- সখী, বলো আমি আঁখি তুলে কারো পানে চাব কি॥