মনে হল যেন পেরিয়ে এলেম অন্তবিহীন পথ আসিতে তোমার দ্বারে মরুতীর হতে সুধাশ্যামলিম পারে॥ পথ হতে আমি গাঁথিয়া এনেছি সিক্ত যূথীর মালা সকরুণ-নিবেদনের-গন্ধ ঢালা-- লজ্জা দিয়ো না তারে॥ সজল মেঘের ছায়া ঘনাইছে বনে বনে, পথ-হারানোর বাজিছে বেদনা সমীরণে। দূরে হতে আমি দেখেছি তোমার ওই বাতায়নতলে নিভৃতে প্রদীপ জ্বলে-- আমার এ আঁখি উৎসুক পাখি ঝড়ের অন্ধকারে॥
অচেনাকে ভয় কী আমার ওরে? অচেনাকেই চিনে চিনে উঠবে জীবন ভরে ॥ জানি জানি আমার চেনা কোনো কালেই ফুরাবে না, চিহ্নহারা পথে আমায় টানবে অচিন ডোরে ॥ ছিল আমার মা অচেনা, নিল আমায় কোলে। সকল প্রেমই অচেনা গো, তাই তো হৃদয় দোলে। অচেনা এই ভুবন মাঝে কত সুরেই হৃদয় বাজে-- অচেনা এই জীবন আমার, বেড়াই তারি ঘোরে ॥
অরূপ বীণা রূপের আড়ালে লুকিয়ে বাজে, সে বীণা আজি উঠিল বাজি' হৃদয়মাঝে॥ ভুবন আমার ভরিল সুরে, ভেদ ঘুচে যায় নিকটে দূরে, সেই রাগিণী লেগেছে আমার সকল কাজে॥ হাতে পাওয়ার চোখে চাওয়ার সকল বাঁধন, গেল কেটে আজ সফল হল সকল কাঁদন। সুরের রসে হারিয়ে যাওয়া সেই তো দেখা সেই তো পাওয়া, বিরহ মিলন মিলে গেল আজ সমান সাজে॥