ওগো আমার এই জীবনের শেষ পরিপূর্ণতা, মরণ, আমার মরণ, তুমি কও আমারে কথা। সারা জনম তোমার লাগি প্রতিদিন যে আছি জাগি, তোমার তরে বহে বেড়াই দুঃখসুখের ব্যথা। মরণ, আমার মরণ, তুমি কও আমারে কথা। যা পেয়েছি, যা হয়েছি যা-কিছু মোর আশা। না জেনে ধায় তোমার পানে সকল ভালোবাসা। মিলন হবে তোমার সাথে, একটি শুভ দৃষ্টিপাতে, জীবনবধূ হবে তোমার নিত্য অনুগতা; মরণ, আমার মরণ, তুমি কও আমারে কথা। বরণমালা গাঁথা আছে, আমার চিত্তমাঝে, কবে নীরব হাস্যমুখে আসবে বরের সাজে। সেদিন আমার রবে না ঘর, কেই-বা আপন, কেই-বা অপর, বিজন রাতে পতির সাথে মিলবে পতিব্রতা। মরণ, আমার মরণ, তুমি কও আমারে কথা।
লিখব তোমার রঙিন পাতায় কোন্ বারতা? রঙের তুলি পাব কোথায়? সে রঙ তো নেই চোখের জলে, আছে কেবল হৃদয় তলে প্রকাশ করি কিসের ছলে মনের কথা? কইতে গেলে রইবে কি তার সরলতা? বন্ধু তুমি বুঝবে কি মোর সহজ বলা? নাই যে আমার ছলা-কলা। সুর যা ছিল বাহির ত্যেজে অন্তরেতে উঠল বেজে, একলা কেবল জানে সে-যে মোর দেবতা। কেমন করে করব বাহির মনের কথা?
নাম রেখেছি কোমল গান্ধার, মনে মনে। যদি তার কানে যেত অবাক হয়ে থাকত বসে, বলত হেসে "মানে কী'। মানে কিছুই যায় না বোঝা সেই মানেটাই খাঁটি। কাজ আছে কর্ম আছে সংসারে, ভালো মন্দ অনেক রকম আছে-- তাই নিয়ে তার মোটামুটি সবার সঙ্গে চেনাশোনা। পাশের থেকে আমি দেখি বসে বসে কেমন একটি সুর দিয়েছে চার দিকে। আপনাকে ও আপনি জানে না। যেখানে ওর অন্তর্যামীর আসন পাতা সেইখানে তাঁর পায়ের কাছে রয়েছে কোন্ ব্যথা-ধূপের পাত্রখানি। সেখান থেকে ধোঁয়ার আভাস চোখের উপর পড়ে, চাঁদের উপর মেঘের মতো-- হাসিকে দেয় একটুখানি ঢেকে। গলার সুরে কী করুণা লাগে ঝাপসা হয়ে। ওর জীবনের তানপুরা যে ওই সুরেতেই বাঁধা, সেই কথাটি ও জানে না। চলায় বলায় সব কাজেতেই ভৈরবী দেয় তান কেন যে তার পাই নে কিনারা। তাই তো আমি নাম দিয়েছি কোমল গান্ধার-- যায় না বোঝা যখন চক্ষু তোলে বুকের মধ্যে অমন ক'রে কেন লাগায় চোখের জলের মিড়।