কেহ কারো মন বুঝে না, কাছে এসে সরে যায়। সোহাগের হাসিটি কেন চোখের জলে মরে যায়॥ বাতাস যখন কেঁদে গেল প্রাণ খুলে ফুল ফুটিল না, সাঁঝের বেলা একাকিনী কেন রে ফুল ঝরে যায়॥ মুখের পানে চেয়ে দেখো, আঁখিতে মিলাও আঁখি-- মধুর প্রাণের কথা প্রাণেতে রেখো না ঢাকি। এ রজনী রহিবে না, আর কথা হইবে না-- প্রভাতে রহিবে শুধু হৃদয়ের হায়-হায়॥
সকল ভয়ের ভয় যে তারে কোন্ বিপদে কাড়বে। প্রাণের সঙ্গে যে প্রাণ গাঁথা কোন্ কালে সে ছাড়বে। নাহয় গেল সবই ভেসে রইবে তো সেই সর্বনেশে, যে লাভ সকল ক্ষতির শেষে সে লাভ কেবল বাড়বে। সুখ নিয়ে, ভাই, ভয়ে থাকি, আছে আছে দেয় সে ফাঁকি, দুঃখে যে সুখ থাকে বাকি কেই বা সে সুখ নাড়বে? যে পড়েছে পড়ার শেষে ঠাঁই পেয়েছে তলায় এসে, ভয় মিটেছে বেঁচেছে সে-- তারে কে আর পাড়বে।
আমার যে গান তোমার পরশ পাবে থাকে কোথায় গহন মনের ভাবে?। সুরে সুরে খুঁজি তারে অন্ধকারে, আমার যে আঁখিজল তোমার পায়ে নাবে থাকে কোথায় গহন মনের ভাবে?। যখন শুষ্ক প্রহর বৃথা কাটাই চাহি গানের লিপি তোমায় পাঠাই। কোথায় দুঃখসুখের তলায় সুর যে পলায়, আমার যে শেষ বাণী তোমার দ্বারে যাবে থাকে কোথায় গহন মনের ভাব?।