যে দিল ঝাঁপ ভবসাগর-মাঝখানে-- কূলের কথা ভাবে না সে, চায় না কভু তরীর আশে, আপন সুখে সাঁতার-কাটা সেই জানে ভবসাগর-মাঝখানে। রক্ত যে তার মেতে ওঠে মহাসাগর-কল্লোলে, ওঠা-পড়ার ছন্দে হৃদয় ঢেউয়ের সাথে ঢেউ তোলে। অরুণ-আলোর আশিস লয়ে অস্তরবির আদেশ বয়ে আপন সুখে যায় যে চলে কার পানে ভবসাগর-মাঝখানে।
হোক খেলা, এ খেলায় যোগ দিতে হবে আনন্দকল্লোলাকুল নিখিলের সনে। সব ছেড়ে মৌনী হয়ে কোথা বসে রবে আপনার অন্তরের অন্ধকার কোণে! জেনো মনে শিশু তুমি এ বিপুল ভবে অনন্ত কালের কোলে, গগনপ্রাঙ্গণে-- যত জান মনে কর কিছুই জান না। বিনয়ে বিশ্বাসে প্রেমে হাতে লহ তুলি বর্ণগন্ধগীতময় যে মহা-খেলনা তোমারে দিয়াছে মাতা; হয় যদি ধূলি হোক ধূলি, এ ধূলির কোথায় তুলনা! থেকো না অকালবৃদ্ধ বসিয়া একেলা-- কেমনে মানুষ হবে না করিলে খেলা!