আমার যে আসে কাছে, যে যায় চলে দূরে, কভু পাই বা কভু না পাই যে বন্ধুরে, যেন এই কথাটি বাজে মনের সুরে তুমি আমার কাছে এসেছ। কভু মধুর রসে ভরে হৃদয়খানি, কভু নিঠুর বাজে প্রিয়মুখের বাণী, তবু নিত্য যেন এই কথাটি জানি তুমি স্নেহের হাসি হেসেছ। ওগো কভু সুখের কভু দুখের দোলে মোর জীবন জুড়ে কত তুফান তোলে, যেন চিত্ত আমার এই কথা না ভোলে তুমি আমায় ভালোবেসেছ। যবে মরণ আসে নিশীথে গৃহদ্বারে যবে পরিচিতের কোল হতে সে কাড়ে যেন জানি গো সেই অজানা পারাবারে এক তরীতে তুমিও ভেসেছ।
তবু কি ছিল না তব সুখদুঃখ যত, আশা নৈরাশ্যের দ্বন্দ্ব আমাদেরি মতো, হে অমর কবি! ছিল না কি অনুক্ষণ রাজসভা-ষড়্চক্র, আঘাত গোপন? কখনো কি সহ নাই অপমানভার, অনাদর, অবিশ্বাস, অন্যায় বিচার, অভাব কঠোর ক্রূর--নিদ্রাহীন রাতি কখনো কি কাটে নাই বক্ষে শেল গাঁথি? তবু সে সবার ঊর্ধ্বে নির্লিপ্ত নির্মল ফুটিয়াছে কাব্য তব সৌন্দর্যকমল আনন্দের সূর্য-পানে; তার কোনো ঠাঁই দুঃখদৈন্যদুর্দিনের কোনো চিহ্ন নাই। জীবনমন্থনবিষ নিজে করি পান অমৃত যা উঠেছিল করে গেছ দান।